1. m.milon77@gmail.com : Daily Mail 24.live : Daily Mail 24.live
  2. info@www.dailymail24.live : Daily Mail 24 :
শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
লালমনিরহাটে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ফুসলিয়ে বিয়ের তথ্য ফাঁস এলাকায় তোলপাড় ভারতের সিকিমের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর লাশ ভেসে এলো লালমনিরহাটে-DailyMail নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা-DailyMail পাঁচ মাসের অ/ন্তঃ/সত্ত্বা স্ত্রী/র পেটে লা/থি, মা/র/ধ/রঃ প/র/কী/য়ায় ব্যস্ত স্বা/মী-DailyMail লালমনিরহাট পৌরসভার বাজেট ঘোষণা: আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী পৌরসভা গঠনে বদ্ধপরিকর  হরিজনদের নিয়ে কেউ ভাবে নাঃ বৃদ্ধা হরিজনের আকুতি-DailyMail লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনে ১০ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেফতার-DailyMail বানরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ কালীগঞ্জের মানুষ-DailyMail কালীগঞ্জে কৃষকের ৩টি গরু পুড়ে ছাঁই লালমনিরহাটের আদিতমারীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলা ও অগ্নিসংযোগ: থানায় মামলা দায়ের

ভূমিদস্যুদের দখলে গঙ্গার চড়াঃ কৃষকের মানববন্ধন 

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৪
  • ১৩০ বার পড়া হয়েছে

 

শাহজাহান সুমন।। বিশেষ প্রতিনিধি।। 

গংগারচড়া উপজেলার মৌজা গজঘন্টা আলসালা পাক, আলালসহ চরের বিস্তীর্ণ  নয় শত একর ভূমি তিস্তার চরাঞ্চলে কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে সম্প্রতি বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানির বিরুদ্ধে কৃষকদের মানববন্ধন। ভূমিদস্যু বসুন্ধরা গ্রুপের নজর পড়েছে এবার রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরের ওপর। সেখানে ‘বসুন্ধরা অয়েল এন্ড গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড’ নামে কারখানা খোলার কথা বলে ৯০০ একর জমি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে এই ভূমিদস্যু গ্রুপ। এ নিয়ে ফুঁসে উঠেছে ওই এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। বসুন্ধরার সন্ত্রাসী বাহিনী ও কৃষকরা বর্তমানে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো সময় এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  কৃষকদের অভিযোগ গত ৭০ বছর ধরে চরের খাসজমিতে নানা ফসল ফলিয়ে তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু এবার কৃষকদের সেখানে আবাদ করতে দেয়নি ভূমিদস্যু বসুন্ধরার সন্ত্রাসী বাহিনী। এতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। নদীভাঙনের শিকার, সর্বস্ব হারা এসব কৃষক জীবিকার পথ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারা ভূমিদস্যু বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে অবিলম্বে কোম্পানীর নামে জমি দখলের উৎসব বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে উত্তরের ‘জীবনরেখা’ তিস্তা দখল করে বসুন্ধরা কারখানা স্থাপন করার চেষ্টা করলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছেন নদীরক্ষা আন্দোলনের সংগঠকরা। 

যেভাবে চরের জমি দখল করছে ভূমিদস্যু বসুন্ধরাঃ

জানা গেছে, গত বছর বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মকর্তারা রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চর ছালাপাক ও আলালের চর এলাকা পরিদর্শন করেন। ওই এলাকাকে ‘অনুন্নত’ উল্লেখ করে সেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘বসুন্ধরা অয়েল এন্ড গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড’ নামে একটি শিল্প-কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেয় তারা। এ লক্ষ্যে প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাহীনুর আলম গত ২০ নভেম্বর রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি চিঠি দেন। সেখানে বেকারত্ব দূরীকরণের উদ্দেশ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলার ছালাপাক ও আলাল মৌজায় শিল্প-প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য কোম্পানীর নামে খাসজমি প্রতীকী মূল্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্তের আবেদন করা হয়। এরপর বসুন্ধরার কর্মকর্তারা চর ছালাপাক ও আলালের চরে নদীভাঙনের শিকার ভিটেমাটিহারা ব্যক্তিদের টার্গেট করে। প্রথমে তিস্তা নদীতে বিলীন হওয়া প্রায় ৪০ একর জমি তাদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে কিনে নেয় ভূমিদস্যু বসুন্ধরা। পরে নদীর পানি শুকিয়ে গেলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে হাত করে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে ছালাপাকারে মধ্যচরে একটি টিনের ঘর তোলা হয়। স্থানীয় কৃষকরা প্রতি বছরের মতো এবারও চরের জমিতে আলু, ভুট্টা, গম, বাদাম, মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয় বসুন্ধরার সন্ত্রাসী বাহিনী। অনেক কৃষক মারধরের শিকার হন। সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে এবার চরে ফসল উৎপাদন করতে পারেননি কৃষকরা। এ নিয়ে যারাই বসুন্ধরার বিপক্ষে আন্দোলন-সংগ্রাম করছেন, তাদের ওপরই চড়াও হচ্ছে সন্ত্রাসী বাহিনী। 

ভুক্তভোগী কৃষক জয়দেবপুর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মকসুদার রহমান বলেন, ‘তিস্তা নদীত হামার সউগ কিছু ভাঙ্গি গেইচে। চরের জমিত আলু, কুমড়া, অসুন, পিঁয়াজ আবাদ করি সারা বছর চলি। এইবার বসুন্ধরা খাসজমি জোর করে দখলের চেষ্টা করতোছে। শেখ হাসিনার কাছে হামার আবেদন যেন হামরা এই সব জমিত আবাদ করি চইলবার পারি।’

স্থানীয় বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সি আব্দুর রহিম বলেন, ‘বাপ-দাদারা এই নদীর চরোত আবাদ করি খাইছে। হামরা নাতি-পুতির ঘরোও আবাদ করি চলতোছি। অ্যাল্যা বসুন্ধরা সেই চরের বালু জমিত নাকি কোম্পানী করবে। জান দেমো, তবু বসুন্ধরাক জমি দেমো না। কারণ এইটা ছাড়া হামার কোনো সম্পদ নাই, চলার মতো পথ নাই।’ 

সুফলা জমি ‘অনাবাদি’ দেখানোর চেষ্টাঃ

চর ছালাপাক, আলালের চরে তিস্তা নদীর পাড়ে এখন পর্যন্ত কৃষকদের দখলে থাকা খাসজমিতে এবারও মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা, গম, বাদাম, ভুট্টাসহ নানা ফসলের আবাদ হয়েছে। গত বছর এই চরের পুরোটায় উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরে রপ্তানি করে প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছেন স্থানীয় রপ্তানিকারকরা। এছাড়া এখানকার উৎপাদিত ফসল রংপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। কিন্তু বসুন্ধরার সন্ত্রাসী বাহিনী চর ছালাপাকের মধ্যচরের জমি দখল করে নেওয়ায় সেখানে এবার কৃষকরা আবাদ করতে পারেননি। তাই অন্যান্য বছরে এই সময়ে সবুজ হয়ে থাকা বালুচর এবার বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। নদীভাঙনের শিকার হয়ে বাঁধে আশ্রিত কৃষকরা প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমের ৬ মাস চরের এসব জমিতে আবাদ করে সংসার চালান। এবার চরের পুরো জমিতে আবাদ করতে না পারায় তারা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

ভূমিদস্যু বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের নিজস্ব গণমাধ্যমে বালুচরে কোম্পানী খুললে সেখানে বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। ছালাপাকের কৃষক হাসান আলী বলেন, ‘বসুন্ধরা তিন মাস আগে কিছু সাংবাদিক নিয়া আসিয়া দেখাইছে এই জমিগুল্যা বিরান। এটে কিছু নাকি আবাদ হয় না। তোমরাই দেখো, এটে কত ফসল ফলে। ওমরা বিরান ভূমি দেখেয়া সরকারের কাছোত খাসজমি লেখি নিবার চায়। মুই প্রধানমন্ত্রীর কাছোত আবেদন করো, জমিদস্যুরা যেন জমি না পায়। হামরা কৃষকরা যেন আবাদ করি খাবার পাই।’ 

একই এলাকার বাসিন্দা মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘চরোত আবাদ করা গেইলে এইবার ২০ থ্যাকি ৩০ কোটি টাকার খালি আলুই আবাদ হইল হয়। এটে হামরা খিরা, বাদাম, কুমড়া আবাদ করি। ৬ মাসোত ২০০ থ্যাকি ৩০০ কোটি টাকার ফসল আবাদ হয় এটে। এইবার হামরা আবাদ কইরবার না পায়া অনেক কষ্টোত আছি। সরকার কয়, এক ইঞ্চিও জমি খালি থাকবার নয়। অ্যাল্যা জমিদস্যুরা হামার কাছোত নদীর ম্যালা জমি কাড়ি নিতোছে। কাউয়ো কিছু কয় না। হামরা কাজ না পাইলে চলিম কেমন করি?

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: 𝐘𝐄𝐋𝐋𝐎𝐖 𝐇𝐎𝐒𝐓